আত্মসচেতন হওয়ার উপায়

আসসালামু আলাইকুম,
আশা করি সবাই ভাল আছেন । আজকে ১টা বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো । বিষয় আমাদের জীবনে সফলতার জন্য খুবই গুরুত্ব রাখে । বিষয়টা হচ্ছে আত্মসচেতনা, কিভাবে আত্মসচেতন হওয়া যায় তা নিয়ে আজকের আলোচনা । তো চলুন শুরু করা যাক ।

আত্মসচেতনতা মানে হচ্ছে – নিজেকে সব বিষয় সম্পর্কে সচেতন রাখা । অর্থাৎ নিজের ভালো-মন্দ সম্পর্কে ভালোভাবে জানা । কিসে মঙ্গল আর কিসে অমঙ্গল সে ব্যাপারে পরিপূর্ন জ্ঞান রাখা । আমি কি কাজ অরছি, কেন করছি, কো উপায়ে করছি, কাজের ফলাফল কি, কাজটির কোন নেতিবাচক দিক আছে কি না, কাজটির ফলে নিজের বা অন্যের ক্ষতির সম্ভাবনা আছে কি না? এসব বিষয়ে নিজের উপলব্ধিকে আত্মসচেতন বলে । খারাপ-ভালো, ন্যায়-অন্যায়, সত্য-মিথ্যা, ভুল-ভ্রান্তি সকল বিষয় সম্পর্কে নিজেকে সচেতন রাখার নামই হচ্ছে আত্মসচেতনতা ।

কিভাবে আত্মসচেতন হওয়া যায় ?

আত্মসচেতন হওয়ার প্রধান উপায় হচ্ছে পারিপার্শ্বিক সকল বিষয়ে ধারনা রাখা । শিক্ষার মাধ্যমে সকল বিষয় জ্ঞান অর্জন করা যায় । শিক্ষা মানুষের জ্ঞানচক্ষু খুলে দেয় , ফলে সে ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝতে পারে এবং সে অনুযায়ী সচেতন হয়ে যেকোনো কাজ সাফল্য সাথে করতে পারে ।

অভিজ্ঞতার মাধ্যমে যেকোনো বিষয়ে সচেতন হওয়া সম্ভব । নিজের অভিজ্ঞতা, পরিবার ও সমাজের অন্যান্য সদস্যদের অভিজ্ঞতা থেকে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে সচেতন হওয়া যায় ।

আত্মসচেতন হওয়ার ক্ষেত্রে সমসাময়িক বিষয়াবলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে । পরিবার, বিদ্যালয়, সমাজ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চলমান ঘটনা প্রবাহে নজর রাখা এবং বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে আত্মসচেতনতাবোধ তৈরি হয় । পারিপার্শ্বিক পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন থাকা আত্মসচেতন হওয়ার আরেকটি দিক । যে ব্যক্তি তার পারিপার্শ্বিক পরিবেশ সম্পর্কে খুঁটিনাটি জানে এবং সচেতন থাকে সে নিজের সম্পর্কেও সচেতন থাকে ।

ক্যারিয়ার গঠনে আত্মসচেতনতা গুরুত্ব

সচেতন থাকলে জীবনের যেকোনো পর্যায়ে যেকোনো ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় । আত্মসচেতন মানুষেরা নিজেদের ভালো-মন্দ নিজেরা অনুধাবন করতে পারে বিধায় ক্যারিয়ারের কোন সময়ে কোন সিদ্ধান্ত নিলে সেটি ভালো হবে তা তারা বুঝতে পারে ।
অনেক সময় ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হতে পারে । গৃহীত সিদ্ধান্তটি সঠিক নাও হতে পারে । এসব ক্ষেত্রে সচেতন ব্যক্তিরা সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করে দ্রুত অন্য কোন সিদ্ধান্ত নেন, যা তাদের ক্যারিয়ারকে বড় ধরনের ক্ষতি থেকে বাঁচিয়ে দেয় ।

একজন মানুষ কতটুকু সফল তা বোঝা যায় তার অর্জন থেকে । আত্মসচেতন মানুষেরা তাদের নিজেদের অর্জন নিজেরাই মূল্যায়ন করে থাকে । ফলে তাদের পক্ষে ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সহজ হয়ে যায় /
অন্যের উপর নির্ভরশীল হলে ক্যারিয়ারে সফল হওয়া যায় না । তাছাড়া অন্যের প্রতি নির্ভরশীলতা মানুষকে তার নিজস্ব চিন্তা-চেতনা থেকে দূরে ঠেলে দেয় এবং তারা স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলে । আত্মসচেতনতা অন্যের প্রতি নির্ভরশীল না হওয়ার শিক্ষা দেয় । আত্মসচেতন ব্যক্তিরা কখনো অন্যের উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল থাকে না ।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *