আল্লাহ কোথায় আছেন ? যমীনে না আসমানে?

আল্লাহ কোথায় আছেন? তিনি কি আরশে আছেন? না আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান ? ইত্যাদি প্রশ্নগুলোর উত্তর সমাজের বিভিন্নজনকে জিজ্ঞাসা করলে বিভিন্ন রকমের উত্তর পাওয়া যাবে । কিন্তু আসলেই আল্লাহ কোথায় আছেন সেটা মানুষের চেয়ে আল্লাহই ভালো জানেন । তাইতো আল্লাহ কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় তার অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন । 

 

কুরআনে আল্লাহ তা’য়ালা আয়াতে বলেছেন তিনি আরশে আছেন । 

সূরা ত্বোয়া-হা (طه), আয়াত: ৫
“তিনি পরম দয়াময়, আরশে সমাসীন হয়েছেন।”

এরকম বহু আয়াত আছে কুরআনে যেখানে আল্লাহ নিজেই বলেছেন যে তিনি আরশে আছেন । অতএব আমরা যারা মনে করি আল্লাহ সর্বত্র আছেন , তাদের এই ধারনাটা ভুল এবং ইসলাম বিরোধী । উপরন্তু, আল্লাহ বা ঈশ্বর সর্বত্র বিরাজমান এই বিশ্বাস হচ্ছে হিন্দুদের । হিন্দুরা মনে করে, বিষ্ণু বা সৃষ্টিকর্তা সব জায়গায় থাকে । তাইতো তাদের ৩৩ কোটি দেবতা । কোনো মানুষ ভালো কাজ করলে তারা বলে তার মধ্যে ঈশ্বর আছে । কোনো বস্তুর কোনো অতিপ্রাকৃতিক কোনো চমৎকার দেখা দিলে তারা সেটাকে পূজো করা শুরু করে । 

 

আমরা মুসলমানরা বলি সবকিছু আল্লাহর, আর হিন্দুরা বলে সব কিছুই আল্লাহ । গাছ ঈশ্বর, মানুষ ঈশ্বর, গরু ঈশ্বর, সাপ ঈশ্বর ইত্যাদি । শুধু এই “র” এর জন্য আপনি ইসলাম এর বড় গুনাহ শিরক করে ফেলতে পারেন । 

অতএব আমাদের সবাইকে এই ভুল আকিদা থেকে ফিরে আসতে হবে । আল্লাহর একত্ববাদের দিকে আসতে হবে । 

 

আল্লাহ আরশে আছেন, এই বিষয়ে কুরআনের প্রায় সকল আয়াত নিচে তুলে ধরা হলঃ

সূরা আল আরাফ (الأعراف), আয়াত: ৫৪
নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশের উপর অধিষ্টিত হয়েছেন। তিনি পরিয়ে দেন রাতের উপর দিনকে এমতাবস্থায় যে, দিন দৌড়ে রাতের পিছনে আসে। তিনি সৃষ্টি করেছেন সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্র দৌড় স্বীয় আদেশের অনুগামী। শুনে রেখ, তাঁরই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা। আল্লাহ, বরকতময় যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক।

সূরা আত-তাওবাহ্‌ (التوبة), আয়াত: ১২৯
এ সত্ত্বেও যদি তারা বিমুখ হয়ে থাকে, তবে বলে দাও, আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত আর কারো বন্দেগী নেই। আমি তাঁরই ভরসা করি এবং তিনিই মহান আরশের অধিপতি।

সূরা ইউনুস (يونس), আয়াত: ৩
নিশ্চয়ই তোমাদের পালনকর্তা আল্লাহ যিনি তৈরী করেছেন আসমান ও যমীনকে ছয় দিনে, অতঃপর তিনি আরশের উপর অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি কার্য পরিচালনা করেন। কেউ সুপারিশ করতে পাবে না তবে তাঁর অনুমতি ছাড়া ইনিই আল্লাহ তোমাদের পালনকর্তা। অতএব, তোমরা তাঁরই এবাদত কর। তোমরা কি কিছুই চিন্তা কর না ?

সূরা হুদ (هود), আয়াত: ৭
তিনিই আসমান ও যমীন ছয় দিনে তৈরী করেছেন, তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে, তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে চান যে, তোমাদের মধ্যে কে সবচেয়ে ভাল কাজ করে। আর যদি আপনি তাদেরকে বলেন যে, “নিশ্চয় তোমাদেরকে মৃত্যুর পরে জীবিত ওঠানো হবে, তখন কাফেরেরা অবশ্য বলে এটা তো স্পষ্ট যাদু!”;

সূরা আর-রাদ (الرّعد), আয়াত: ২
আল্লাহ, যিনি উর্ধ্বদেশে স্থাপন করেছেন আকাশমন্ডলীকে স্তম্ভ ব্যতীত। তোমরা সেগুলো দেখ। অতঃপর তিনি আরশের উপর অধিষ্ঠিত হয়েছেন। এবং সূর্য ও চন্দ্রকে কর্মে নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকে নির্দিষ্ট সময় মোতাবেক আবর্তন করে। তিনি সকল বিষয় পরিচালনা করেন, নিদর্শনসমূহ প্রকাশ করেন, যাতে তোমরা স্বীয় পালনকর্তার সাথে সাক্ষাত সম্বন্ধে নিশ্চিত বিশ্বাসী হও।

সূরা বনী-ইসরাঈল (الإسرا), আয়াত: ৪২
বলুনঃ তাদের কথামত যদি তাঁর সাথে অন্যান্য উপাস্য থাকত; তবে তারা আরশের মালিক পর্যন্ত পৌছার পথ অন্বেষন করত।

সূরা আল আম্বিয়া (الأنبياء), আয়াত: ২২
যদি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলে আল্লাহ ব্যতীত অন্যান্য উপাস্য থাকত, তবে উভয়ের ধ্বংস হয়ে যেত। অতএব তারা যা বলে, তা থেকে আরশের অধিপতি আল্লাহ পবিত্র।

সূরা আল মু’মিনূন (المؤمنون), আয়াত: ৮৬
বলুনঃ সপ্তাকাশ ও মহা-আরশের মালিক কে?

সূরা আল মু’মিনূন (المؤمنون), আয়াত: ১১৬
অতএব শীর্ষ মহিমায় আল্লাহ, তিনি সত্যিকার মালিক, তিনি ব্যতীত কোন মাবুদ নেই। তিনি সম্মানিত আরশের মালিক।

সূরা আল ফুরকান (الفرقان), আয়াত: ৫৯
তিনি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের অন্তর্বর্তী সবকিছু ছয়দিনে সৃস্টি করেছেন, অতঃপর আরশে সমাসীন হয়েছেন। তিনি পরম দয়াময়। তাঁর সম্পর্কে যিনি অবগত, তাকে জিজ্ঞেস কর।

সূরা আন নম্‌ল (النّمل), আয়াত: ২৬
আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তিনি মহা আরশের মালিক।

সূরা আস সেজদাহ্ (السّجدة), আয়াত: ৪
আল্লাহ যিনি নভোমন্ডল, ভুমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশে বিরাজমান হয়েছেন। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন অভিভাবক ও সুপারিশকারী নেই। এরপরও কি তোমরা বুঝবে না?

সূরা আয্‌-যুমার (الزّمر), আয়াত: ৭৫
আপনি ফেরেশতাগণকে দেখবেন, তারা আরশের চার পাশ ঘিরে তাদের পালনকর্তার পবিত্রতা ঘোষনা করছে। তাদের সবার মাঝে ন্যায় বিচার করা হবে। বলা হবে, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বপালক আল্লাহর।

সূরা আল মু’মিন (غافر), আয়াত: ৭
যারা আরশ বহন করে এবং যারা তার চারপাশে আছে, তারা তাদের পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করে, তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং মুমিনদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে, হে আমাদের পালনকর্তা, আপনার রহমত ও জ্ঞান সবকিছুতে পরিব্যাপ্ত। অতএব, যারা তওবা করে এবং আপনার পথে চলে, তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন।

সূরা আল মু’মিন (غافر), আয়াত: ১৫
তিনিই সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী, আরশের মালিক, তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা তত্ত্বপূর্ণ বিষয়াদি নাযিল করেন, যাতে সে সাক্ষাতের দিন সম্পর্কে সকলকে সতর্ক করে।

সূরা আয্‌-যুখরুফ (الزّخرف), আয়াত: ৮২
তারা যা বর্ণনা করে, তা থেকে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের পালনকর্তা, আরশের পালনকর্তা পবিত্র।

সূরা আল-হাদীদ (الحديد), আয়াত: ৪
তিনি নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল সৃষ্টি করেছেন ছয়দিনে, অতঃপর আরশের উপর সমাসীন হয়েছেন। তিনি জানেন যা ভূমিতে প্রবেশ করে ও যা ভূমি থেকে নির্গত হয় এবং যা আকাশ থেকে বর্ষিত হয় ও যা আকাশে উত্থিত হয়। তিনি তোমাদের সাথে আছেন তোমরা যেখানেই থাক। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা দেখেন।

সূরা আল-হাক্কাহ (الحآقّة), আয়াত: ১৭
এবং ফেরেশতাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকবে ও আট জন ফেরেশতা আপনার পালনকর্তার আরশকে তাদের উর্ধ্বে বহন করবে।

সূরা আত-তাকভীর (التّكوير), আয়াত: ২০
যিনি শক্তিশালী, আরশের মালিকের নিকট মর্যাদাশালী,

সূরা আল-বুরুজ (البروج), আয়াত: ১৫
মহান আরশের অধিকারী।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *