কম্পিউটার প্রজন্ম বা জেনারেশন | বিস্তারিত আলোচনা

কম্পিউটার আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এমন একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা এখন বেশিরভাগ লোকই ব্যবহার করে ।কম্পিউটার ছাড়া বর্তমান বিশ্ব অচল বললে ভুল হবে না । আজকে আমরা এই কম্পিউটার বিষয়ক কিছু জানবো এবং তা হচ্ছে –  কম্পিউটার জেনারেশন বা প্রজন্ম ।

কম্পিউটার টেকনোলজির ভাষায় জেনারেশন/প্রজন্ম কথাটি দ্বারা কম্পিউটারে বিবর্তনকে বুঝায় । বহু আগ থেকে বিবর্তিত হতে হতে আজকে কম্পিউটারের এই রূপ আমরা দেখতে পাচ্ছি ।  প্রাথমিকভাবে, প্রজন্মের শব্দটি বিভিন্ন হার্ডওয়্যার প্রযুক্তির মধ্যে পার্থক্য করার জন্য ব্যবহৃত হলেও এখন,  প্রজন্ম বা জেনারেশন কথাটি  হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার উভয় ক্ষেত্রে প্রচলিত, যা একসঙ্গে মিশে একটি সম্পূর্ণ কম্পিউটার সিস্টেম পরিচালনা করে ।

 

কম্পিউটারের ইতিহাস বেশ কয়েক দশক ধরে চলেছে  এসেছে কম্পিউটারের পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রজন্ম ।

প্রতিটি প্রজন্মের সময় এবং বৈশিষ্ট্যগুলি বিস্তারিতভাবে নিচে আলোচনা করা হয়েছে।

১৯৪০-১৯৫৬: প্রথম জেনারেশন – ভ্যাকুয়াম টিউব

এই সময়ের কম্পিউটার গুলিতে সার্কিট হিসেবে ভ্যাকুয়াম টিউব এবং মেমরির জন্য চৌম্বক ড্রামস  ব্যবহার করা হত। এই কম্পিউটারগুলো ছিলো আকারে বিশাল । এর ফলে এই কম্পিউটার ব্যবহারে জন্য বিশাল রুমের প্রয়োজন হত । অদক্ষ সামগ্রী জন্য কম্পিউটার প্রচুর পরিমাণে তাপ উৎপন্ন করত , বিপুল বিদ্যুৎ ব্যয় করত

এই প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটার ‘মেশিন ভাষা’র (সর্বাধিক মৌলিক প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ যা কম্পিউটারে বোঝে) উপর নির্ভরশীল ছিল । এই কম্পিউটারগুলি এক সময়ে একটাই সমস্যা সমাধান করতে পারত । ইনপুট হিসেবে punched cards এবং paper tapeব্যবহৃত হত । এই যুগের দু’টি উল্লেখযোগ্য কম্পিউটার হল UNIVAC এবং ENIAC । UNIVAC হল প্রথম বাণিজ্যিক কম্পিউটার যা 1 9 51 সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা ব্যুরো দ্বারা কেনা হয়েছিল

 

১৯৫৬-১৯৬৩: দ্বিতীয় প্রজন্ম – ট্রানজিস্টর

 

দ্বিতীয় প্রজন্মের কম্পিউটারে ভ্যাকুয়াম টিউবের পরিভর্তে  ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয়েছিল । যদিও ট্রানজিস্টার ১৯৪৭  সালে Bell Labs প্রথম আবিষ্কৃত হয়, তথাপি 1950-এর দশকের আগে  ট্রানজিস্টর কম্পিউটারে তেমন উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যবহার করা হয় নি।

ট্রানজিস্টার ভ্যাকুয়াম টুবের থেকে অনেক উন্নত ছিল, যেটা কম্পিউটারকে প্রথম প্রজন্ম থেকে  আরো ছোট, দ্রুত, সস্তা, দক্ষ করে তোলে । যদিও এই ট্রানজিস্টর প্রচুর তাপ উৎপন্ন করত, যা কম্পিউটারকে ক্ষতি করার একটা কারন ছিলো ।

 

১৯৬৪-১৯৭১: তৃতীয় প্রজন্ম – ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট

integrated circuit এর উন্নতি তৃতীয় প্রজন্মের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য । এই পর্যায়ে ট্রানজিস্টরগুলি আরো ছোট হয় এবং সিলিকন চিপস এর পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়, যা কম্পিউটারের গতি এবং দক্ষতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করে। এই প্রজন্মে punched cards and printouts এর পরিবর্তে, ব্যবহারকারীরা কীবোর্ড এবং মনিটরের সাহায্য কম্পিউটারের সাথে ইন্টারঅ্যাক্ট করে । ব্যবহারকারীরা প্রথম অপারেটিং সিস্টেমের সাথে পরিচিত হয়, যা একসাথে অনেক  applications পরিচালনা করতে সক্ষম ছিল ।

প্রথমবারের মতো কম্পিউটারগুলি অনেক ব্যবহারকারীর ব্যবহারের আওতায় আসে, কারণ কম্পিউটারগুলি আগের প্রজন্মের তুলনায় ছোট এবং সস্তা ছিল ।

 

১৯৭২-২০১০: চতুর্থ প্রজন্ম – মাইক্রোপ্রসেসর

মাইক্রোপ্রসেসর কম্পিউটারে সংযোজন চতুর্থ প্রজন্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য । হাজার হজার ইন্টিগ্রেড সার্কিট একটি সিলিকন চিপে ব্যবহার করা হয় । প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটার যেখানে সম্পূর্ণ রুম জুড়ে ছিল সেখানে চতুর্থ প্রজন্মের কম্পিউটার টেবিলের উপর আনা হয় । Intel 4004 chip ১৯৭১ সালে ডেভেলপ করা হয় । কম্পিউটারের সব সরঞ্জাম সি পি ইউ এর মধ্যে সজ্জিত করা হয়ে থাকে । এবং ১৯৮১ সালে অ্যাপল কর্তৃক Macintosh চালু হয় ।

যেহেতু এই প্রজন্মের কম্পিউটারগুলো আরো ক্ষমতাসম্পন্ন হয়, তাই কম্পিউটারগুলো একটা আরেকটার সাথে যোগাযোগ কুরতে সক্ষম হয় । যেটা আধুনিক ইন্টারনেটের সূচনা করে দেয় ।

 

২০১০-: পঞ্চম প্রজন্ম – কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটারগুলো Artificial Intelligence এর উপর নির্ভর করে, যা এখন পর্যন্ত ডেভেলপমেন্ট হচ্ছে । যদিও বর্তমানে  voice recognition  এর মত অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহৃত হচ্ছে ।  parallel processing and superconductors এর ব্যবহার Artificial Intelligence কে বাস্তবে রূপ দিতে সাহায্য করছে ।  Quantum computation and molecular এবং nanotechnology  কম্পিউটারের বিবর্তনে আমূল পরিবর্তন এনেছে । পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটিং এর লক্ষ হচ্ছে এমন একটা ডিভাইস তৈরি করা যেটা  natural language এর সাড়া দিতে পারবে ।

 

 

এই ছিল সংক্ষেপে কম্পিউটারের ৫টি প্রজন্ম , যা এতক্ষন আলোচনা করা হল ।কম্পিউটার সম্পর্কে আরো জানতে নিচের আর্টিকেলগুলো দেখতে পারেন ।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *