নারিকেলের ব্যবহার

নারিকেল অত্যন্ত পরিচিত একটি ফল । নারিকেল গাছ  আকারে অনেক লম্বা হয়, এরা বিরাট উচু হয়ে থাকে । এদের কোন পার্শ্ব শাখা থাকে না । কচি নারিকেলকে ডাব বলা হয়ে থাকে । নারিকেলের অনেক ব্যবহার প্রচলিত আমাদের সমাজে । আমরা নারিকেলের তেল ব্যবহার করি, নারিকেলের আঁশ/ছোবড়া দিয়ে জাজিম সহ বিভিন্ন জিনিস পত্র বানানো হয় ।

নারিকেলে থাকে প্রচুর পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট,ফ্যাট আর ভিটামিন-এ, একটি নারিকেল শরীরের স্বাভাবিক পুষ্টি জোগায়।১০০ গ্রাম কচি নারিকেল থেকে আমাদের শরীর পায় ৪১ ক্যালরি। আর ১০০ গ্রাম শুকনো নারিকেল থেকে মেলে ৬৬২ ক্যালরি।

সাধারন ব্যবহার

১,ডাবের পানি তৃষ্ণা মেটায়,সহজে হজম হয় ,শরীর ঠান্ডা রাখে।

২,পিত্তরোগ,অম্লরোগে ডাবের পানি খুব উপকারী।

৩,পেটে কৃমি হলে দুপুরের খাওয়ার পর কচি ডাবের পানি খেলে এক সপ্তাহের মধ্যে কৃমি নাশ হয়।

৪,ঝুনো নারিকেল থেকে তৈরি টাটকা নারিকেল তেল ভাতে মেখে খেলে অজির্ণ রোগ সেরে যায়।

 

রোগ-ব্যাধিতে ব্যবহার

প্রথমেই জানিয়ে রাখি আয়ুর্বেদিক কোন প্রাচিন গ্রন্থে দৈহিক ও মানসিক রোগের ক্ষেত্রে নারিকেল তেলের অভ্যন্ত্র(০০০) প্রয়োগের নজির দেখা যায় না ;এর কারন হচ্ছে এর দ্বারা অগ্ন্যাশয় ও পাকাশয়ে ক্ষত সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকাতেই একে অভ্যন্তর প্রয়োগের জন্য গ্রহন হয়নি’কিন্তূ লোকায়তিক মুষ্টিযোগুলিতে দেখা যাচ্ছে যে,এই গাছের বিভিন্নাংশকে নানা প্রকার রোগের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে;তবে এটা ঠিক যে,নারকেল ফলের শাসের বা জলের যোগগুলি রক্তবহ স্রোতে কোন প্রতিক্রিয়া করে না।

১.ক্রিমিতেঃ এসব ক্রিমি মালদ্বারে উৎপাত করে না আর নাকের ডগাও চুলকায় না এবং মুখ দিয়েও জল ওঠে না।এটা সৃষ্টি হয় আমাদের এক প্রকার ক্রিমি (ব্যাকটিরিয়া)সৃষ্টি হয়,তার কাজ পেটে বায়ু সৃষ্টি করা এবং উদরকে স্তম্ভিত করে রাখা,এই ক্ষেত্রে এখানে কচি ডাবের জল অর্থাৎ যে জলের স্বাদ কষায় ও লবণাক্ত,সেই রকম কচি ডাবের জল আহারের পর খেতে হয়,এর দ্বারা ঐ ব্যাকটিরিয়াগুলির দ্বংস হয়।তবে জল মিষ্টি হয়ে গেলে সেই খেলে আরও ক্ষতি করবে ।

২.মূত্রকৃচ্ছ্রতায়ঃ অজির্ণজনিত কারণে,অত্রাধিকার রৌদ্রে ঘোরায়,অত্যাধিক পরিশ্রমে অথবা একনাগাড়ে এক আসনে চেপে বসে থাকায় যে প্রস্রাবের কৃচ্ছ্রতা আসে সেক্ষেত্রে একটা বা দুটো কচিন ডাবের জল খেলে আরও ক্ষতিই করবে।

৩.কোষ্ঠবদ্ধতায়ঃ পিত্ত-শ্লেষ্মার ধাত,বায়ু জন্য দাস্ত পরিস্কার হয় না;এক্ষেত্রে ঝুনো নারকেলের জল প্রত্যাহ খালি পেটে এক বা দুই কাপ করে খেতে হবে।এর দ্বারা ঐ অসুবিধেটা চলে যাবে ।

৪.প্রোষ্টেট গ্রন্থির স্ফীতিতেঃ প্রস্রাব ধরে রাখার ক্ষমতা অনেকের থাকে না,আবার কারও কারও প্রস্রাবের একসজ্ঞে বেরোয় না –ফোটা ফোঁটা ঝরতে থাকে,এক্ষেত্রে নারকেল গাছের কচি শিকড় ছেচে রস করে সকালের দিকে এক চা- চামচ ও বৈকালের দিকে এক চা-চামচ একটু দুধ মিশিয়ে খেলে ৭/৮ দিনের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য উপকার পাওয়া যায়।

 

 

নারিকেলে প্রতি ১০০ গ্রামে আছে

জলীয় অংশ ৪.৩ ক্যালসিয়াম ৪০ মিঃ
মোট খনিজ ১.৬ লৌহ ২.৭
আঁশ ৬.৬ ক্যারোটিন(মাইক্রোগ্রাম)
খাদ্যশক্তি(কিলোক্যালরি) ৬৬২ ভিটামিন বি-১ ০.০৮
আমিষ ৬.৬ ভিটামিন ০.০১
চর্বি ৬২.৩ ভিটামিন-‘সি’ ১ মিঃ
শর্করা ১৮.৪    

 

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *