বিশ্বগ্রাম কি? এবং এর ধারনা ?

বিশ্বগ্রামের ধারনা বা গ্লোবাল ভিলেজ হচ্ছে এমন একটি পরিবেশ যেখানে পৃথিবীর সকল মানুষই একটি একক সমাজে বসবাস করে এবং ইলেকট্রনিক  মিডিয়া ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে একে অপরকে সেবা প্রদান করছে ।

বিশ্বগ্রাম এর ধারণায় পুরো বিশ্বকে একটি গ্রামের মত বিবেচনা করা হয় । যেখানে যে কেউ চাইলে যে কারো সাথে মুহূর্তেই যোগাযোগ করতে পারে , যেমন একটি গ্রামের মানুষের মধ্যে হয়ে থাকে।

অক্সফোর্ড ডিকশনারী অনুযায়ীঃ
“বিশ্বকে বিবেচনা করা হচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত একক সম্প্রদায়। (The world considered a single community by telecommunication)”

 

উইকিপিডিয়ার অনুযায়ীঃ
“বিশ্বগ্রাম হচ্ছে একটি সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক কাঠামো। (The global village is the sociological and cultural structure.)”

সর্বপ্রথম গ্রলবাল ভিলেজ কথাটি ব্যবহার করেন কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ও বিখ্যাত দার্শনিক ‘মারশেল ম্যাক্লুহান ‘ (Herbert Marshall McLuhan (July 21, 1911 – December 31, 1980)। তিনি ১৯৬২ সালে তার The Gutenberg Galaxy: The Making of Typographic Man (১৯৬২) নামক বইয়ে প্রথম বিশ্বগ্রামের ধারণা দেন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্রবর্ধমান উন্নতির ফলে সমস্ত পৃথিবী ক্রমশই ছোট হয়ে একটি গ্রামের দিকে ধাবিত হচ্ছে । গ্লোবাল ভিলেজ এমন একটি শব্দ যেখানে পুরো পৃথিবীকে একটি গ্রামের মত কল্পনা করা হয় । যেখানে যেকোনো মানুষ যেকোনো সময়ে পৃথিবীর অন্য প্রান্তের মানুষের সাথে চাইলে যোগাযোগ করতে পারবে যেমনটি আমরা একটা গ্রামের মানুষের মধ্যে দেখে থাকি । মূলত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মূল লক্ষ্যই হচ্ছে এমন একটা বিশ্ব তৈরি করা যেখানে যেকোন ব্যক্তি বিশ্বের যেকোন স্থান হতে যেকোন সময় উপযুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্য আদান-প্রদান করত পারবে ।

 

বিশ্বগ্রামে বাংলাদেশঃ

বাংলাদেশও বিশ্বগ্রামে অংশ হিসেবে ভালোই এগিয়ে আছে। আয়তনে ছোট হলেও এদেশের প্রায় ৫৩ শতাংশ মানুষ মুঠোফোনের একক ব্যবহারকারি, এদেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ জায়গা মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় চলে এসেছে । তবে যোগাযোগের সবচেয়ে দ্রুত এবং সহজ মাধ্যম হচ্ছে ইন্টারনেট । যদিও বাংলাদেশ এই খাতে তেমন উন্নতি সাধন করতে পারে নি, তবুও বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারি দিন দিন বেড়েই চলেছে । ২০০৪ সালে সাবমেরিন ক্যাবলের সাথে যুক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ বিশ্বগ্রামের অন্যতম অংশীদার হিসেবে পরিচিত হতে পেরেছে । দেশের মানুষ এখন অনলাইন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে যোগাযোগের অন্যতম সম্ভাবনা তৈরি করেছে । কিছু বছর আগেও বিদেশে কথা বলতে হলে দেশের মানুষের অনেক টাকা খরচ করতে হত। কিন্তু বর্তমানে অনলাইন মিডিয়ার ফলে এই যোগাযোগ এতটাই সহজ হয়েছে যা আপনাদের কাছে খুবই স্পষ্ট ।

 

বিশ্বগ্রামের সুবিধাঃ

১। এর ফলে মানুষের কাজের দক্ষতা এবং গতি বৃদ্ধি পেয়েছে ।

২। সারা পৃথিবী মানুষের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে  ।

৩। ইন্টানেটের মাধ্যমে পৃথিবীর এক প্রান্তে বসে অন্য প্রান্তের খবর অতি অল্প সময়ে নেয়া যাচ্ছে।

৪। ব্যবসা-বানিজ্যের প্রসার ঘটেছে এবং লেনদেন সহজতর হচ্ছে ।

৫। সাংস্কৃতিক তথ্যাদি বিনিময় করতে পারছে।

৬। অনলাইন লাইব্রেরি, অনলাইন ইউনিভার্সিটি, ভিডিও টিউটোরিয়াল বা ই-বুকের মাধ্যমে শিক্ষার প্রসার ঘটছে ।

৭। ই-কমার্স সাইটের মাধ্যমে ঘরে বসেই যেকোনো পন্য কিনতে পাওয়া যাচ্ছে ।

৮। মানুষের মধ্যে ভাতৃত্ববোধ জাগ্রত হচ্ছে।

 

বিশ্বগ্রামের উপাদানসমূহঃ

১। হার্ডওয়্যার (Hardware)

২। সফটওয়্যার (Software)

৩। নেটওয়্যার্ক সংযুক্ততা বা কানেকটিভিটি (Connectivity)

৪। ডেটা (Data)

৫। মানুষের সক্ষমতা (Capacity)

 

 

 

Comments

comments

Related posts

Leave a Comment