দেশে বেড়েই চলছে মুঠোফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা

4 total views, 3 views today

বর্তমানে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৫৩ শতাংশ বা সাড়ে ৮ কোটি মানুষ মুঠোফোনের একক বা ইউনিক ব্যবহারকারী। আগামী চার বছরে দেশে নতুন করে যোগ হবে আরও ১ কোটি ১০ লাখ ব্যবহারকারী। এর ফলে ২০২০ সালে দেশে মুঠোফোনের একক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৯ কোটি ৬০ লাখ।

 

মুঠোফোন অপারেটরদের বৈশ্বিক সংগঠন জিএসএমএ প্রকাশিত ‘মোবাইল ইকোনমি ২০১৭’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। স্পেনের বার্সেলোনায় সম্প্রতি শেষ হওয়া ‘মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস ২০১৭’ উপলক্ষে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে জিএসএমএ। প্রতিবেদনে একক ব্যবহারকারী বৃদ্ধির হিসাবে শীর্ষ দশ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের নাম আছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সাল পর্যন্ত সারা বিশ্বে একক মুঠোফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮০ কোটি। জিএসএমএর হিসাবে ২০২০ সালে এই সংখ্যা হবে ৫৭০ কোটি। এর মধ্যে শীর্ষ ১০টি দেশ থেকে যোগ হবে ৬৪ কোটি ৮০ লাখ ব্যবহারকারী, যা নতুন যোগ হতে যাওয়া গ্রাহকের ৯০ শতাংশ।
একজন ব্যক্তির একাধিক সিম কার্ড থাকলেও একক ব্যবহারকারী হিসাব করতে একটি সিম কার্ডকেই বিবেচনায় নেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে হিসাব করেই জিএসএমএ সারা বিশ্বে একক মুঠোফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা নির্ধারণ করে।
জিএসএমএর হিসাব অনুযায়ী, আগামী চার বছরে ভারতে সবচেয়ে বেশি নতুন ব্যবহারকারী বাড়বে। দেশটিতে বর্তমানে ৬৫ কোটি একক মুঠোফোন ব্যবহারকারী আছে, এর সঙ্গে নতুন যোগ হবে আরও ৩১ কোটি। একই সময়ে চীনে নতুন মুঠোফোন ব্যবহারকারী বাড়বে ১৫ কোটি ৮০ লাখ। বর্তমানে দেশটিতে একক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০৫ কোটি। ভারত ও চীনের পরে সবচেয়ে বেশি ব্যবহারকারী যোগ হবে নাইজেরিয়ায়। দেশটিতে ২০২০ সাল পর্যন্ত ২ কোটি ৭০ লাখ একক ব্যবহারকারী যোগ হবে।
ভারত, চীন, নাইজেরিয়ার পর এই তালিকায় শীর্ষ দশে থাকা অন্য দেশগুলো হলো যথাক্রমে ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ায় ২ কোটি ৩০ লাখ, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে ২ কোটি ১০ লাখ, ব্রাজিলে ১ কোটি ৮০ লাখ, পাকিস্তানে ১ কোটি ৭০ লাখ এবং মিয়ানমার ও বাংলাদেশ থেকে ১ কোটি ১০ লাখ করে নতুন মুঠোফোন ব্যবহারকারী যোগ হবে।
জিএসএমএ বলছে, একক মুঠোফোন ব্যবহারকারীর হিসাবে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশীদের তুলনায় এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর গড় একক মুঠোফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫০ শতাংশ। বাংলাদেশে এটি এখন ৫৩ শতাংশ, আর ভারতে ৪৮ শতাংশ।

 

সরকারি হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে মুঠোফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২ কোটি ৭ লাখ। চালু থাকা সক্রিয় মুঠোফোন সংযোগের ভিত্তিতে এই সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। আর জিএসএমএর হিসাবে দেশে একক মুঠোফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮ কোটি ৫০ লাখ। একজন ব্যক্তি একের অধিক সিম কার্ড ব্যবহার করার কারণেই সরকার ও জিএসএমএর হিসাবে এই পার্থক্য রয়েছে।
জিএসএমএর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরের মাঝামাঝি বিশ্বে একক মুঠোফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫০০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। ২০১৫ সালে বিশ্বে একক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪০০ কোটি ছাড়িয়ে যায়। আর সব দেশ মিলিয়ে বিশ্বে এখন ৭৯০ কোটি সক্রিয় সংযোগ আছে, ২০২০ সালে এই সংখ্যা বেড়ে ৯৭০ কোটি হবে।
প্রতিবেদন অনুসারে বর্তমানে সারা বিশ্বে ৩৮০ কোটি স্মার্টফোন রয়েছে। ২০২০ সালে স্মার্টফোনের সংখ্যা দাঁড়াবে ৫৭০ কোটি। অর্থাৎ, আরও ১৯০ কোটি স্মার্টফোন আগামী চার বছরে মানুষের হাতে পৌঁছাবে। জিএসএমএর হিসাবে মুঠোফোন প্রযুক্তি ও সেবা বর্তমানে বিশ্ব জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) ৪ দশমিক ৪ শতাংশের জোগান দিচ্ছে, যার আর্থিক মূল্য ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলার। আর বাংলাদেশের জিডিপিতে সরাসরি ৩ দশমিক ৮ শতাংশের জোগান দিচ্ছে মুঠোফোন সম্পর্কিত বিভিন্ন সেবা।

তথ্যসূত্রঃ  https://goo.gl/zDBzJ9

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *